• Bengali
  • English
  • Hindi

PHESANT

ফিসন্ট (Pheasant) 

 

সৌন্দর্যের দিক থেকে এই পাখি অনন্য ও অসাধারণ। আকারে বড় এই পাখির এভিয়ারিতেই প্রাধান্য বেশি। এদের লেজটি লম্বা এদের মধ্যে প্রায় ৩০ টির বেশী অপরিচিত পুরনো জাত। চিনা রিংনেক জাত (ফেসিয়ানাস কোলচিকাস টরকোয়াটাস) (Phasianus colchicus torquatus) সব থেকে বেশি পরিচিত। এরা গ্যালিফর্মেস বর্গের ফেসিয়ানাইডি গোত্রভুক্ত ফেসিয়ানাস গণের অন্তর্গত পক্ষিবিশেষসব ফিসন্ট -এর মতো এই প্রকার পুরুষ ফিসন্টরাও অত্যন্ত উজ্জ্বল, বর্ণময় এবং ঝলমলে লেজের অধিকারী হয়। স্ত্রী ফিসন্ট সাদামাটা। 

 

 

স্ত্রী ও পুরুষ চেনার উপায়:

পুরুষ: এর মাথা ও গলা নীলচে সবুজ রঙের এবং গলাতে পরিষ্কার সাদা কলার বেড় দেওয়া থাকেবুকের মাঝখানে বেগুনি আভা যুক্ত লাল রংয়ের উজ্জ্বল দাগ থাকে এবং এর পার্শ্ববর্তী অংশ হালকা রঙের হয়ে থাকেলেজের পালকে হরিদ্রাভ রংয়ের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে কালো দাগ থাকে।

 

স্ত্রী: বুকের ও পিঠের পালকে কালচে বাদামী ফোঁটার বিন্যাসকেন্দ্র দেখা যায়পেটের দিকটা হালকা বাদামী হয়লেজের পালকে কালো ও হালকা ঘন বিন্যস্ত ঢেউ খেলানো রেখা দেখা যায়। 

 

খাদ্য: ফিজেন্ট -এর পুষ্টির প্রয়োজন অনেকটা টার্কির মতো। এটা সর্বভুক হয় বাজারে মুরগির খাবার হিসেবে যা পাওয়া যায় তাতে অভ্যস্ত করিয়ে নিলে সুবিধা হয়। সবুজ শাকপাতা, গাজর কুচি, ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম বাণিজ্যিক মুরগির খাদ্য না খাওয়ালে খনিজ পদার্থের জন্য সমুদ্রের ফেনার গুঁড়ো, ঝিনুকের গুঁড়ো (কিনতে পাওয়া যায়), ডিমের খোসা, ফোটান চুন ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। প্রাণিজ প্রোটিন হিসেবে কেঁচো, আরশোলা ইত্যাদি, ছোট ছোট টুকরো করে কাটা ডিম সিদ্ধ ও মাংসের টুকরো ইত্যাদি দিতে হবে।

 

 

প্রজনন: ফিজন্ট পাখির প্রজনন করাতে হলে প্রতিটি পুরুষ পাখির সঙ্গে অন্তত দুটি করে স্ত্রী পাখি রাখতে হবেলক্ষ্য রাখতে হবে ডিম পাড়ার পর স্ত্রী পাখিটি ডিমে তা দেওয়া শুরু করে কিনাতাহলে তুলে রাখা ডিমগুলি সেইখানে রেখে আসতে হবে স্ত্রী পাখির অগোচরেএখানে উল্লেখ্য যে ডিমগুলি তুলে রাখলে প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত একবার পা বদলে দিতে হবেনাহলে ডিমের ভিতর ভাসমান কুসুম আঠার মতো ডিমের খোসার ওপরের দিকের অংশে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকেতবে এখানে মুরগিটিকে বাচ্চা তোলায় অভিজ্ঞ হতে হবে। মুরগি দিয়ে বাচ্চা তোলা সম্ভব, তবে সেগুলির পরিবর্তে ফেজেন্ট পাখির ডিম ঢেলে দেওয়া হয়। অন্যান্য পাখিদের মতো ফেজেন্টদের ডিমও রঙিন হয়। স্ত্রী পাখি সাধারণত ৮ থেকে ১০ টি ডিম পাড়ে। ২৩ - ২৪ দিন পরে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। মুরগির বাচ্চার মতোই ফেজেন্টদের বাচ্চারা জন্মের পর থেকেই চলাফেরা করে

 

 

রোগ:

অন্তঃপরজীবী রোগ:

বড় গোলকৃমি বা এসকারিয়াসিস: অ্যাসকারডিয়া গ্যালাই নামক বড়ো গোলকৃমির আক্রমণ প্রায়ই হতে দেখা যায়। কৃমির ডিমযুক্ত মল, দূষিত খাদ্য বা দূষিত জলের মাধ্যমে কেঁচো, গঙ্গা ফড়িং, মাছি ইত্যাদির মাধ্যমে পরজীবীর সংক্রমণ ঘটেকৃমির ডিম খাওয়ার এক মাসের মধ্যে ফিজন্টদের অন্ত্রে ওই কৃমির পূর্ণতা দেখা যায়।

          সাধারণত ক্ষুধামন্দা, তরল মল, রক্তাল্পতা এবং বৃদ্ধিহীনতা ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

          এরকম হলে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ বয়সে পাইপারাসি বা লেভার্মিকল জাতীয় ঔষধ উপযুক্ত মাত্রায় পানীয় জলের সঙ্গে প্রয়োগের মাধ্যমে সংক্রমণ মুক্ত রাখা যায় এবং চার মাস অন্তর কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে এছাড়াও কখনও কখনও সিকাম কৃমি, ক্যাপিলারিয়া কৃমি বা ফিতাকৃমির আক্রমণ দেখা যায়। 

 

বহিঃ পরজীবীজনিত রোগ:

লাইস: লাইস বিভিন্ন ধরনের হয়এবং এক এক ধরনের লাইস দেহের এক এক অংশে জন্ম নেয়এবং ফিজন্টের রক্ত শোষণ করে বেঁচে থাকে। চঞ্চলতা, অকারণ উদ্দীপনা, চুলকানি, পালক ঝরে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া ও রক্তাল্পতাতে আক্রান্ত হয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

রেড মাইট: এরা অতি ক্ষুদ্র এবং খালি চোখে দেখা যায় না। পাখির চঞ্চলতা, চুলকানি পালক ঝরে যাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য, রক্তাল্পতা দেখা যায় এবং অত্যধিক আক্রমণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এরা রক্তকে খাঁচার বা কাঠের খাঁজে লুকিয়ে থাকে

PHESANT

Pheasant 

 

This bird is unique and extraordinary in terms of beauty. This bird is large in size and predominates in the aviary. Their tail is long. Of these, more than 30 are unfamiliar old varieties. The Chinese ringneck variety (Phasianus colchicus torquatus) is the best known. They belong to the class Fascianas of the family Fascianidae in the group Galliformes. Like all pheasants, this type of male pheasant has a very bright, colorful and shiny tail. Female pheasants are ordinary.    

 

 

Identifying characters of male and female:

Male: It's head and neck are bluish green in color and it's neck is covered with a clear white collar. In the middle of the chest there are bright red spots with purple hue and the surrounding part is light colored. The tail feathers have horizontal black spots with a yellowish color.

 

Female: The center of the chest and back feathers are dark brown in colour. The abdomen is light brown. The tail feathers show black and light densely arranged wavy lines.

 

 

Food: Like Turkey Pheasant also need a lot nutrients. It is omnivorous. It is beneficial to get accustomed to what is available in the market as chicken food. The need for green leafy vegetables, carrot paste, etc. is immense. If you are not feeding them commercial chicken's food, you can use sea foam powder, oyster powder (available in market), egg shell, boiled lime, etc. for minerals. As animal protein earthworms, cockroach etc., boiled eggs cut into small pieces and pieces of meat should be given.

 

Reproduction: To breed pheasant birds, at least two female birds should be kept with each male bird. Care should be taken to ensure that the female starts laying on eggs after laying eggs. Then the eggs should be left there hiding the female birds. Note that if you keep the eggs, you have to change the side at least once in every 24 hours. Otherwise, the floating yolk inside the egg can be likely to stick to the upper part of the egg shell. But here the chicken has to be experienced in raising chicks. It is possible to raise chicks with chickens, but pheasant eggs are poured instead. Like other birds, pheasant eggs are colorful. The female usually lays 8 to 10 eggs. After 23-24 days the baby hatches. Like chicks, baby pheasants move from birth.

 

 

Diseases:

Endogenous diseases:

Ascariasis: Ascardia galae is often seen as an attack of large roundworms. Parasites are transmitted through stool contaminated with worm eggs, through contaminated food or contaminated water in the body of earthworms, Ganga grasshoppers, flies etc. Within a month of eating the worm's eggs, the fullness of the worms can be seen in the intestines of the pheasants.

           Usually there are no symptoms other than loss of appetite, fluid in the stool, anemia and lacking of growth.

           In this case, at the age of 10 to 12 weeks, the infection can be kept free by applying Piparasi or Levermicol with appropriate amount of drinking water and deworming should be done in every four months. Sometimes Sikam worms, capillary worms or tapeworms attack them.

 

External parasitic diseases:

 Lice: Lice are of different types. And each kind of lice is born in different part of the body. And survives by absorbing the blood of the pheasant. Agility, irritability, itching, drooping feathers, weight loss and anemia can lead to death.

 

Red mites: They are very small and cannot be seen with naked eye. Agility of birds, itchyness, feather droppings, loss of appetite, anemia are seen and excessive attacks can lead to death. They hide in the gape of cage or wooden cage after sucking blood of pheasants. 

PHESANT