• Bengali
  • English
  • Hindi

COCKATOOS

কাকাতুয়া  (Cockatoos) 

 

কাকাতুয়া ২১ টি প্রজাতি নিয়ে গঠিত সিটাসিফর্মেরস বর্গের অন্তর্গত কাকাটিউডিয়া (Cacatuoidae) গোত্রের পাখিএদের বাসস্থান মূলত অস্ট্রেলিয়া হলেও ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, নিউগিনি পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে দেখা যায়সবার প্রথমে যে পাখিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে এটি হলো সালফার ক্রেস্টেড (Sulphur crested)এটির আবার দুটি উপজাতি আছে। একটি আকারে অনেকটা বড়ো কথা বলা পাখি হিসেবে এর সুনাম আছেঅপরটি হলো লেজার সালফার ক্রেস্টেড (Laser sulphur-crested)এটি আকারে বড়টির প্রায় অর্ধেক। এরা কথা বলতে পারে তবে বড়টির মতো অতটা সাবলীলভাবে নয়

           এরা লম্বায় ১২-১৪ ইঞ্চির হয় এবং ওজনে ৩০০-১২০০ গ্রাম হয়। এদের খুব সুন্দর আকর্ষণীয় ঝুঁটি ও বাঁকানো ঠোঁট থাকেঠোঁটের রং সাদা হয়। প্রধানত সাদা ধূসর ও কালো রঙের হয়। প্রায় ক্ষেত্রে এরা বর্ণময় ঝুঁটি, গাল ও লেজের অধিকারি হয়

           অন্যান্য টিয়া পাখির মতো এদের পা ছোটঅফিশিয়ালি বাঁকানো ঠোঁটকে গাছের ডাল বেয়ে উঠতে সাহায্য করেচলাফেরা করে হেলেদুলেলম্বা -চওড়া ডানার সাহায্যে উড়তেও পারে। মালয় দ্বীপপুঞ্জে 'কাকাতুয়া' শব্দের অর্থ হল সাঁড়াশি। প্রকৃত অর্থে কাকাতুয়ার সাঁড়াশির মতো শক্তিশালী ঠোঁট ১৪ - ১৬ গেজের জালের ইস্পাতকে কেটে ফেলতে পারে। এদের খাঁচায় অন্তত ১২ গেজের জাল ব্যবহার করা প্রয়োজন। খাবারের পাত্র, জলের পাত্র সবই ধাতব হতে হবে 

 

কাকাতুয়ার প্রধান প্রজাতি :

১) ব্ল্যাক পাম কাকাতুয়া : এই প্রজাতির কাকাতুয়া লম্বায় ২ ফুটের বেশিশরীর কালো, গালের পালকহীন অংশের চামড়া টকটকে লাল। এটি নিউগিনি অঞ্চলের বাসিন্দা এবং এটি অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য পাখি। এরা সব থেকে বড় কাকাতুয়া।

 

২) গালা : এরা দেখতে খুব সুন্দর হয় এর ডানার এবং পিঠের রং ধূসর। ঠোঁট ও ঝুঁটির রং সাদা। আকারে ১৪ - ১৫ ইঞ্চি লম্বাএরা কথা শিখতে পারে। এদের আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়াতে

 

৩) লেট বিটার্স :  এটির মাথা, বুক, পেট গোলাপি রঙেরমাথা লাল রংয়ের ও হলুদ ডোরাকাটা ঝুঁটিএরা কিছু কথা শিখতে পারে। এদের আদি বাসস্থান অস্ট্রেলিয়াতে।

 

৪) সালফার ক্রেস্টেড : এটি বেশ বড়। ১৬ - ২৪ ইঞ্চি লম্বা। এবং ওজনে প্রায় ৭০০ - ১২০০ গ্রাম হয়এরা কথা বলায় পটুএদের ঝুঁটির রং লাল হয়।

 

৫) লেজার সালফার ক্রেস্টেড : সালফার ক্রেস্টের প্রায় অর্ধেক ওজন ২৫১ - ৪১২ গ্রামবেশ কথা বলতে পারে এবং এদের ঝুটির রং হলুদ হয় 

 

৬) সলমান ক্রেস্টেড : এদের ঝুঁটির রং লালচে বা লাল, মাথা এবং বুক গোলাপি, পিঠ ও ডানা সাদাওজন ৭৫০ - ৯২০ গ্রামএবং ২০ ইঞ্চি লম্বা। 

 

৭) হোয়াইট কাকাতুয়া : এরা সাদা রংয়ের কাকাতুয়া এবং এদের ঝুঁটি ছাতার মত। এরা মাঝারি আকারের হয়এরা ৪৫০ - ৭৫০ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে।

 

খাঁচা : এক জোড়া কাকাতুয়ার জন্য ৬ ফুট লম্বা × সাড়ে ৩ ফুট চওড়া × ৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট খাঁচা দরকার হয়। জাল অন্তত ১২ গেজের এবং চেইন লিংক হলে ভালো হয়কাঠামোর জলের পাত্র, খাবার পাত্র সবই হতে হবেখাঁচায় খোপ বা বাসা থাকবে পেছনের দেওয়ালে খাঁচার ছাদ থেকে ৮ ইঞ্চি নিচে। খোপের আকার ১৪ ইঞ্চি লম্বা × ১২ ইঞ্চি চওড়া ×  ২০ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট হয় এবং সামনের দিকে ওপরের কোণে ৩ ইঞ্চি ব্যাসের প্রবেশপথ থাকবেসামনের ওপরের অর্ধেকটা কব্জা লাগিয়ে দরজার মতো খোলার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রবেশপথের ৩ ইঞ্চি নিচে ভেতরে ও বাইরে ৩ ইঞ্চি দাঁড়ের মতো বেরিয়ে থাকবেখোপের দু'পাশে বায়ু চলাচলের জন্য আধ ইঞ্চি ব্যাসের সাত-আটটি ছিদ্র থাকবে। প্রবেশপথের ভেতর দিকে নিচে একটি মোটা তারজাল লাগানো থাকে পাখির ওঠা-নামার জন্যখোপের ভেতরে নিচে কাঠের কুচি, ডালের টুকরো ও শুকনো পাতা বিছানা থাকবেখোপটি কাঠের পাটাতন বা প্লাইউডের হতে পারে।

 

খাদ্য : কাকাতুয়ারা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পছন্দ করে। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শাক - সবজি ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করে। নানা রকমের বাদাম, জোয়ার, যব, ভুট্টা, সূর্যমুখীর দানা, শক্ত ফল এবং কাঁচা ডালপালা হলো এদের প্রধান খাদ্য। কিন্তু বাচ্চা হলে তখন সঙ্গে খাওয়ানোর জন্য দুধ ভেজানো স্পঞ্জ কেক দিতে হবে। এরা দিনের আলোতে খাদ্য গ্রহণ করে। চিবাতে বেশি পছন্দ করে বলে চিবানোর রসদ হিসেবে কিছু-না-কিছু বাসায় রাখা দরকার। 

 

স্ত্রী ও পুরুষ চেনার উপায় : স্ত্রী কাকাতুয়া ও পুরুষ কাকাতুয়া পাখি একই রকম দেখতে হলেও পুরুষ পাখির চোখের তারা কাল এবং স্ত্রী পাখির চোখের তারা বাদামী রঙের হয়। এদের ভালোভাবে শনাক্ত করা দরকার।

 

প্রজনন : এদের প্রজনন বেশ খরচসাপেক্ষ কারণ, খাঁচায় সবকিছুতেই ধাতব ও আস্তরন ব্যবহার করতে হয়এদের প্রজনন -এর ব্যবস্থা করলে অসফল হওয়ার কোনো কারণ নেইবাসা নির্বাচন, ডিমে তা দেওয়া, বাচ্চা লালন পালন করতে স্ত্রী ও পুরুষ পাখি সমান ভাবে অংশগ্রহণ করে।

           কাকাতুয়ার ডিম সাধারণত ডিম্বাকার এবং সাদা হয়সাধারণত ডিমের আকার ১.২ - ২.২ ইঞ্চি লম্বা এবং ব্যাস ০.৭৫ - ১.৫ ইঞ্চির মধ্যে হয়ে থাকে। বড়ো কাকাতুয়ারা ১ - ২ টি করে ডিম পাড়ে এবং ফুটে বাচ্চা বের হতে ২৭ - ২৯ দিন সময় লাগেছোটো বা মাঝারি জাতের কাকাতুয়ারা একেবারে ৩ - ৪ টি ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটে বের হতে প্রায় ২০ - ২৫ দিনের মতো সময় লাগে। খাদ্য যোগানের উপর ডিমের সংখ্যা নির্ভর করে। নির্দিষ্ট সময়ে এরা বাসা পরিত্যাগ করে। এবং উড়তে পারার জন্য সময় নেয় ৭ - ১১ সপ্তাহপুরানো পালক ঝরিয়ে নতুন পালক গজাতে ছোট কাকাতুয়ার ৬ মাস সময় লাগেসেখানে বড় জাতের কাকাতুয়ার সময় লাগে এক বছর।

            কাকাতুয়া বেশিরভাগ সময় অত্যন্ত কর্কশভাবে ডাকাডাকি করে। কখনো এরা যদি চুপচাপ বসে থাকে তবে বুঝতে হবে এটিই তাদের অসুস্থতার লক্ষণএরা একাকীত্ব পছন্দ করেনা। একটি কাকাতুয়া যদি একা রাখা হয় তবে তার সঙ্গ দিতে হবে। তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। ছোট জাতের কাকাতুয়া প্রায় ৩০ - ৪০ বছর বাঁচে। বড় জাতের কাকাতুয়ারা ৫০ - ৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে দেখা যায়। সালফার ক্রেস্টেড কাকাতুয়ারা ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

 

বিভিন্ন রোগ : ওজন কমে যাওয়া, এসপারজিলোসিস (ছত্রাক ঘটিত রোগের) কারণে ঘটে। পালক উঠে যাওয়ার সমস্যা ও ডাকাডাকি করার সমস্যা দেখা যায়। বিভিন্ন আণুবীক্ষণিক জীব ও পরজীবীর আক্রমণে কিডনির সমস্যা দেখা যায়। 

COCKATOOS

Cockatoos

Cockatoos are birds of the species Cacatuoidae, which belongs to the genus Citasiformes, consisting of 21 species. Although they live mainly in Australia, they are found in areas of the Philippines, Indonesia and New Guinea. The first bird mentioned is the Sulfur crested cockatoo. It also has two species. It is a lot bigger in size. It has a reputation as a talking bird. The other is laser sulfur-crested cockatoo. It is about half the size of the big one. They can talk. But not as smoothly as the big one.

           They are 12-14 inches in length and weigh about 300-1200 grams. They have very attractive crest and curved beak. The color of the beak is white. They are mainly whitish gray and black coloured. In most cases they have colorful crests, cheeks and tails.

         Like other pheasants, they also have short legs. Mainly curved lips help them to climb up tree branches. They usually move swaying. They can also fly with the help of long and wide wings. In the Malay Islands, the word 'cockatoo' means tongs. In fact, cockatoo has strong tongs - like beak. They can cut 14-16 gauge steel with the help of their beak. We have to use at least 12 gauge net in their cage. Food containers, water containers all should be metallic.

 


Main species of cockatoo:

1) Black Palm Cockatoo: The cockatoos of this species is more than 2 feet in length. The body is black, the skin on the featherless part of the cheeks is bright red. It is native to the New Guinea region and is an extremely rare bird. They are the biggest cockatoos.

 

2) Gala: They are very beautiful to look at. Its wings and back are gray. The color of the beak and crest is white. They are 14 - 15 inches long in size. They can learn to speak. They are native to Australia.

 

3) Late Beaters : The colour of their head, chest and abdomen are pink. At head there is a red and yellow striped crest. They can learn to speak. They are native to Australia.

 

4) Sulfur Crested: They are quite large in size, about 18 - 24 inches long. And weighs about 800 - 1200 grams. They are good at talking. The color of their crest is red.

 

5) Laser Sulfur Crested: Their weight is about half of the sulfur crest weighs. They are about 251 - 412 grams weigh. They can talk and they are yellow coloured.

 

6) Salman Crested: The color of their crest is reddish or red, head and chest are pink; back and wings are white. Weight is about 650 - 920 grams. And they are 20 inches long.  

7) White Cockatoos : They are white cockatoos and their crests are like umbrellas. They are of medium sized. Their weigh is about 450-650 grams. 

Cage: A pair of cockatoos requires a cage of 6 feet long, 3 and a half feet wide and 4 feet high. It is better if the net is at least 12 gauge and chain linked. In the cage there should have water containers, food containers. The cage will have a nest of 6 inches, below the roof of the cage on the back wall. The measurement of the cage should be 14 inches long × 12 inches wide × 20 inches high and must have a 3 inch diameter entrance at the top corner. The upper half of the front should be hinged and opened like a door. The entrance will be exceeded by 3 inches inside and 3 inches outside, like a rod. There will be seven or eight holes of half an inch diameter for ventilation on each side of the cage. A thick net is placed at the bottom of the entrance to allow the birds to come and go. Inside the entrance will be a bed made of wood chips, pieces of branches and dried leaves. The niche can be a wooden deck or plywood.


Food : Cockatoos like a variety of foods. They mostly like to eat vegetables. Their main food is a variety of nuts, sorghum, barley, maize, sunflower seeds, hard fruits and raw stalks. But if you have a chick then you have to give milk soaked sponge cake to feed with. They take food in daylight. Because they prefer to chew, so you need to keep something in the cage to be chew.

Identifying characters of male and female cockatoos : The female cockatoo and the male cockatoo look alike, but the male bird's eye star is black and the female bird's eye star is brown. They need to be well identified.


Reproduction : Their breeding is quite expensive. Because, everything in the cage has to use metal and lining. There is no reason for them to fail if they are reproduced. Male and female birds participate equally in nest selection, egg laying, and child rearing.

       Cockatoo eggs are usually oval and white. Eggs are usually 1.2 - 2.2 inches long and 0.75 - 1.5 inches in diameter. Large cockatoos lay 1-2 eggs and it takes 28-29 days for the young to hatch. Small or medium species of cockatoos lay 3-4 eggs and it takes about 20-25 days for the young to hatch. The number of eggs depends on the food supply. They leave home at certain times. And it takes 8 - 11 weeks to fly. It takes 6 months for a small cockatoo to shed old feathers and grow new ones. But it takes a year for large cockatoos to grow.

         Cockatoos shout very loudly most of the time. If they ever sit quietly, it must be understood that this is a sign of their illness. They do not like loneliness. If a cockatoo is left alone, it must be accompanied.  You have to talk to him. Small cockatoos live for about 30-40 years. Large species of cockatoos can live up to 50-60 years. Sulfur crested cockatoos can live up to 100 years.


Diseases : Weight loss will be found, they also suffer from aspergillosis (a fungal disease). Problems with feather lifting and shouting are seen. Kidney problems are seen in the attack of various microscopic organisms and parasites.

COCKATOOS