• Bengali
  • English
  • Hindi

LOVE BIRD

লাভ বার্ড 

 

বর্ণনা: এই পাখিটির আদি বাসস্থান ছিল আফ্রিকায়। এদের কয়েকটি উপজাতি পাওয়া গেলেও এদের মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ১) চোখের চারধারে সাদা বলয় বিশিষ্ট পাখিটি বেশি পরিচিত যেমন - রোজি, ফিশার্স, মাস্কডএদের বেশিরভাগই গোষ্ঠী দলবদ্ধভাবে থাকেরোজি পাখিটি হালকা সবুজ রঙের হলেও সামনের দিকটা গোলাপি এবং ঠোঁটের রঙ ফ্যাকাশে গোলাপি। অনেকে ভুল করে একে টিয়া পাখির বাচ্চাও বলে থাকে। ঝাঁক বাঁধা লাভ বার্ড -এর মধ্যে এরা বেশি হিংস্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। স্বভাবে এরা বেশ চঞ্চল ও আমুদে প্রকৃতির হয়। আকারেও বেশ বড়। মাস্কড লাভ বার্ডের পিঠের রং গাঢ় সবুজ হলেও মুখ ও গলা ইটের মতো লাল।

               একটি বড় খাঁচা বা এভিয়ারিতে বেশ কয়েক জোড়া লাভ বার্ডকে একসঙ্গে রাখার চেয়ে হিজড়াকে আলাদা খাঁচায় রাখাই সবচেয়ে ভালোখাঁচাকে অন্তত ৩ ফুট লম্বা × ১ ১/২ ফুট চওড়া × ১ ১/২ ফুট উঁচু হতে হবেএদের খাঁচায় যে কাঠ ব্যবহার করা হয় সেটি যেন শক্ত পোক্ত হয়। আবার কুড়ি গজের বেশি পাতলা তারজালও ব্যবহার করা উচিত নয়। 

 

স্ত্রী ও পুরুষ পাখি চেনার উপায়: লাভ বার্ডের পুরুষ ও স্ত্রী পাখির পালকের রং হুবহু একই রকমেরতাই দুটি লিঙ্গের পাখিকে চিনতে হলে ধৈর্য্য সহকারে তাদের ব্যবহারে তারতম্য লক্ষ্য করতে হবেএকটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে পুরুষ পাখি গলা বাঁকিয়ে খাবার উগরে দেয় স্ত্রী পাখিকে। তবে চেহারার গঠনে স্ত্রী পাখি একটু ভারী গোছের হয়। এছাড়া একটি পাখিকে সাবধানে এক হাতে ধরে অন্য হাত দিয়ে অস্থির হাড়ের ব্যবধান অনুভব করে দেখলে অনেক ক্ষেত্রে লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব হয়। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে নির্ভরযোগ্য নয়। সাধারণ নিয়ম হল পুরুষ পাখি অপেক্ষা স্ত্রী পাখির এই হাড়ের (pelvic bone) ব্যবধান বেশ প্রকটকখনও কখনও দুটি স্ত্রী পাখি একই বাসা দখল করে ডিম পাড়ে ও তা দিয়ে থাকে। তাই এরকম জোড়াকে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে আসল জোড়া বলে মনে করা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। অবশ্য এই ডিমগুলি থেকে বাচ্চা হয় না। আর একটা সন্দেহের ব্যাপার, যখন ডিমের সংখ্যা প্রচুর বেড়ে যায়, যখন দুটি পাখি একসঙ্গে খোপের ভিতরে থাকে। হাতে রকম ঘটনা ঘটে পুরুষ পাখির অভাবের জন্য। আরেকটি উপায় অবশ্য আছে যা হল অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক ঝাঁক পাখিকে একসঙ্গে রেখে বড় করাতারপর প্রতিটি পাখিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে জোড়া চিনে নিতে হবে। অবশ্য ঠোঁটের রঙ লাল হলে অন্য রঙ লাগাতে হবে। এছাড়া পায়ে রিং পরানো থাকলে চেনা আরও সহজ হয়ে যায়।

লাভ বার্ডের খাবার: এই লাভ বার্ড পাখিকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাধারণত কাঙনী দানার সঙ্গে ব্ল্যাক সিড মিশিয়ে দেওয়া হয়এছাড়াও প্রতিদিন গম, ভুট্টা, ভেজানো ছোলা বা ছোলা সিদ্ধ -এর মধ্যে যেকোনো একটি দেওয়া উচিত। এর সঙ্গে সবুজ শাকসবজি দিতে হবে অনেকবারপাখির খাঁচার মধ্যে সমুদ্রের ফেনা, বিটনুন এবং এক টুকরো ড্যালা চুন ও অ্যামাইট অতি অবশ্যই রাখা দরকার।

 

 

বাসা তৈরীর উপকরণ: বড় খাঁচার মধ্যে একসঙ্গে লাভ বার্ড গুলিকে রাখা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রতিটি জোড়াকে আলাদা খাঁচায় রাখা যায়। একজোড়া লাভ বার্ড রাখতে হলে প্রতিটি খাঁচা অন্তত ৩ ফুট লম্বা, ১ ১/২ ফুট চওড়া, ১ ১/২ ফুট ঁচু হতে হবেপ্রবেশপথের ব্যাস পৌনে ২ ইঞ্চি থেকে ১ ১/২ ইঞ্চি চওড়া হতে হবে। কারণ সব লাভ বার্ড বড় খরকুটো সংগ্রহ করে। তাই প্রবেশপথ আঁটোসাঁটো হলে এসব নিয়ে ঢুকতে যথেষ্ট অসুবিধে হবেএর দুই ইঞ্চি নিচে বদ্রিকার খোপের মতো দাঁড় বসাতে হবে যেটির ২ ইঞ্চি থাকবে খোপের ভিতরে আর ২ ইঞ্চি থাকবে খোপের বাইরে। খোপের ভিতরের দিকে োপের নিচ থেকে খোপেমেঝে পর্যন্ত এক ফালি তারজালকে শক্ত করে দেওয়ালে লাগাতে হবেএই তারজাল বেয়ে পাখিরা খোপেগভীরে ওঠানামা করে

প্রজনন: লাভ বার্ড পাখিগুলি বাচ্চা থেকে বড় হতে সময় নেয় ছয় থেকে সাত মাসলাভ বার্ড এরা সংখ্যায় চার থেকে ছয় টি করে ডিম পাড়েএই ডিমগুলি ক্রমানুযায়ী দু'দিনের ব্যবধানে পাড়া হয়ে থাকে। উপযুক্ত বাসা তৈরি করার পর এরা ডিম পাড়ে। প্রসঙ্গক্রমে একটি কথা উল্লেখযোগ্য যে লাভ বার্ড নিরক্ষীয় অরণ্য অঞ্চলের পাখি। সেখানে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। তাই এদের ডিম আর্দ্র আবহাওয়ায় থাকার পক্ষে উপযুক্ত। বাসার মধ্যে উপকরণ কম থাকলে লাভ বার্ড সেই আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারেনা। এর ফলে ডিম শুকিয়ে বাচ্চা মরে যায়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রায় ২২ - ২৩ দিন সময় লাগে এবং ৫ সপ্তাহ বয়সে বাসা ছেড়ে উড়তে পারে। কিন্তু সাধারণত ৯ সপ্তাহ বয়সের আগে স্বাবলম্বী হয় না। বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য দুধ, পাউরুটি, কচি ভুট্টা, গম সেদ্ধ, কাঁচা বরবটি, কাঁচা মটরশুঁটি, গাজর, পালং, কলমি শাক ইত্যাদি দিতে হবে। ৩ - ৪ মাস বয়সের মধ্যে এদের নতুন পালক গজাবে এবং ৫ মাস বয়সের মধ্যে পরিণত হবে।

        আর বাসা তৈরীর উপকরণ হিসেবে ঘাস, গাছের অংশ, কাগজ ছেঁড়া, ছোবড়া ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারেতবে আমার মতে নরম ঘাস ব্যবহার করলে সুবিধা হয়। 

LOVE BIRDS

Love bird

 

Description: Origin of this bird is  Africa. Although a few subspecies have been found, they can be roughly divided into two groups. 1) The bird with white ring around the eye is more known to us. Such as - Rosie, Fishers, Masked. Most of them live in groups. The rosy bird is light green in color but the front is pink and the lips are pale pink. Many people mistakenly call it as the chick of parrots. They are more ferocious in the flock of love birds.

         Naturally they are quite agile and merry nature. They are quite large in size. The back of the masked love bird is dark green but it's face and neck are red, like bricks.

           It is better to keep herds in separate cages than to keep several pairs of love birds together in a large cage or aviary. The cage should be at least 3 feet long × 1 1/2 feet wide × 1 1/2 feet high. The wood used in their cages should be hard enough. Again, wires thinner than twenty yards should not be used.

 

 

Identifying characters of male and female birds: The color of the feathers of male and female Love Birds are exactly the same. So if you want to recognize birds of both sexes, you have to be patient and notice the difference in their behavior. If you notice a little, you can see that the male bird bends its throat and vomits food to the female bird. However, the female bird is a little heavier in appearance. In addition, in many cases, it is possible to determine the sex of a bird by carefully holding one of them in one hand and another in other hand, then you can feel the distance between the resting bones. This method is not completely reliable. The general rule is that the distance between the pelvic bone of the female bird is more obvious than that of the male bird. Sometimes two female birds occupy the same nest and lay eggs. So, it is very natural for an inexperienced person to consider such a pair as a real pair. These eggs do not hatch at all. Another suspicion is that when the number of eggs increases a lot, when two birds are in the nest together. Incidents like this happen because of the lack of male birds. There is another way, of course, to raise a flock of chicks together. Then each bird has to be identified separately and identified in pairs. However, if the color of the beak is red, another color should be applied. In addition, wearing a ring on the legs makes it easier to recognize them separately.

 

 

Food of love bird: To keep the love bird healthy and strong, black seed is usually mixed with kangani grains. Also wheat, corn, soaked gram or boiled gram should be given daily. With this you have to give green vegetables many times. Sea foam, bitumen and a piece of solid lime and amyte must be kept in the bird cage. 

 

 

Nesting materials: Lovebirds can be kept together in large cages. It is best if each pair can be kept in a separate cage. To keep a single pair of Love Bird, each cage should be at least 3 feet long, 1 1/2 feet wide, 1 1/2 feet high. The diameter of the entrance should be 2 1/2 to 1 1/2 inches wide. Because all love birds collet straws. So, if the entrance is tight, it will be difficult enough to enter with these. Two inches below it there should be placed a nest, like a nest of Badrika which will have 2 inches inside the nest and 2 inches outside the nest. Inside the cage, from the bottom of the cage to the floor of the cage, a piece of net should be fastened to the wall. The birds move up and down inside the cage through this net. 

 

Reproduction: Lovebirds take six to seven months to hatch. Lovebirds lay four to six eggs. These eggs are laid sequentially at intervals of two days. After laying in a suitable nest, they lay on the eggs. Incidentally, the Love Bird is a bird of the equatorial forest region. There is a lot of rain. So, their eggs are suitable for living in humid weather. If there is less material in the house, Love Bird cannot retain that moisture. As a result, the egg dries and the baby dies. It takes about 22-23 days for the chicks to hatch and can leave the nest at 5 weeks of age. But usually they do not become self-sufficient before the age of 9 weeks. Milk, bread, young corn, boiled wheat, raw barbati, raw peas, carrots, spinach, pickled vegetables etc. should be given to feed the children. Their new feathers will grow at 3-4 months of age and it will mature into 5 months of age.

         Grass, tree parts, scraps of paper, straw etc. can be used as building materials. However, in my opinion, using soft grass is an advantage.


LOVE BIRD